বিজ্ঞাপন:
বজ্রপাতের আতঙ্কে কেঁপে উঠল সুন্দরগঞ্জ, আহত ৫

বজ্রপাতের আতঙ্কে কেঁপে উঠল সুন্দরগঞ্জ, আহত ৫

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকদিনের টানা দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও সেই বৃষ্টিই যেন নিয়ে এলো আতঙ্ক। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় চার নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিকট শব্দে বজ্রপাতের ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে। আহতদের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের মোছা. নুরিনা বেগম (১৭), দহবন্দ ইউনিয়নের মো. আতোয়ার রহমান (৫০), দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের মোছা. জয়নব বেগম (৪৫), জরমনদী গ্রামের শ্রীমতি উষা রানী (৫০) এবং সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকার মোছা. সোনালী বেগম (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করেই আকাশ কালো হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি। একপর্যায়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতের বিকট শব্দে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি।

বজ্রপাতে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজন ও স্থানীয়রা। চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সেবায় একজনের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে বাকি চারজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন,“বজ্রপাতে আহত হয়ে চার নারীসহ মোট পাঁচজন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একজন সুস্থ বোধ করায় তাকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী কয়েকদিন ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদীর পাড় এবং উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি প্রয়োজন ছাড়া বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেন।

স্বস্তির বৃষ্টি এলেও বজ্রপাতের ভয় এখন নতুন উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের। বর্ষা যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রকৃতির এই নীরব ঘাতকের আশঙ্কা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com